arrow_upward

প্রশ্ন ও উত্তর

  • search COVID-19/ কোভিড-১৯ কি?
    করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস - যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে এক লাখের বেশি মানুষের। বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ - এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।
  • searchকোভিড-১৯ এর উপসর্গ কি কি?
    কোভিড-১৯ এর সবচাইতে সাধারণ উপসর্গ হল জ্বর, ক্লান্তি এবং শুকনা কাশি। এর সাথে থাকতে পারে শরীরে ব্যথা, বন্ধ নাক, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা বা ডায়রিয়া। প্রথম দিকে উপসর্গ গুলো সল্প মাত্রায় শুরু হয়ে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির মাঝে কোনও উপসর্গ প্রকাশ নাও পেতে পারে এবং তিনি অসুস্থ নাও বোধ করতে পারেন। শতকরা আশি ভাগের উপরে মানুষ কোনও বিশেষ চিকিতসা ছাড়াই এই রোগ থেকে সেরে ওঠে। সাধারণত কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে প্রতি ৬ জনে ১জন গুরুতর অসুস্থ হতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বয়স্কদের এবং যাদের উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা এধরনের কোনও শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। *Original content
  • search কোভিড-১৯ কীভাবে ছড়ায়?
    কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যদের মাঝে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে বা কাশে, তখন তার নাক-মুখ থেকে নির্গত ছোট ছোট ড্রপ্লেটের(?) মাধ্যমে আশেপাশের জিনিসপত্র বা সারফেসে ভাইরাস ছড়িয়ে যায়। অন্যরা যখন এইসব জিনিসপত্র ধরে বা সারফেস স্পর্শ করে এবং তারপর চোখ, নাক বা মুখে হাত দেয়, তখন তাদের মাঝেও ভাইরাসটির সংক্রমন হয়। আবার কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় যদি কেউ তার খুব কাছে থাকে, তবে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখনির্গত ড্রপলেটে থাকা ভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও অন্য ব্যক্তিটির শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ কারনে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কমপক্ষে ১মিটার/৩ফুট দূরে থাকা প্রয়োজন।
  • search গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে কারা আছেন?
    কোভিড-১৯ কীভাবে আমাদের ক্ষতি করে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, বয়স্কদের এবং যাদের হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, বক্ষব্যধি, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সার সহ এধরণের কোনও রোগ ব্যধি আগে থেকেই আছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা অন্যদের চাইতে তাদের বেশি।
  • search কোভিড-১৯ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা ঠিক হবে?
    কোভিড-১৯ সংক্রমনে অসুস্থতা সাধারণত অল্পই থাকে, বিশেষ করে বাচ্চা এবং তরুণদের ক্ষেত্রে। তবে অসুস্থতা মারাত্মক ও হতে পারেঃ আক্রান্তের মধ্যে প্রতি ৫ জনে ১ জনের হাসপাতালে যাওয়া লাগতে পারে। একারনে নিজেকে এবং নিজের প্রিয়জনদের নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা নিজেদের, আমাদের প্রিয়জনদের এবং আশেপাশের সবাইকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু কাজ করতে পারি। এর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান কাজটি হল নিয়মিত সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া এবং শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শগুলো জেনে রাখুন এবং ভ্রমণ, চলাচল বা জমায়েতের ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা রয়েছে সেগুলি মেনে চলুন।
  • search এটা কি মানুষ তৈরি করেছে?
    না, ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্স স্টাডি করে জানা গিয়েছে ভাইরাস এসেছে প্রাকৃতিক নিয়মে৷ কোনও গবেষণাগারে তৈরি হয়নি৷
  • search কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বা চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক কতটুকু কার্যকরী?
    না, ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকরী। যেহেতু কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত রোগ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বা চিকিৎসায় তাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাবহার করা উচিৎ নয়। কেবলমাত্র ডাক্তারের পরামর্শে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের চিকিৎসাতেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিৎ।
  • search কত দিন লাগে বুঝতে যে সংক্রমণ হয়েছে?
    বিজ্ঞানীর খুঁজে চলেছেন কত জনের মৃদু উপসর্গ হয় বা একেবারেই হয় না, অথচ তারা রোগ ছড়াতে পারেন৷ মোটামুটি একটা হিসেব থেকে জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ সংক্রমণ ছড়াতে পারেন৷ সংক্রমণ হওয়ার পর উপসর্গ দেখা দিতে মোটামুটি ২-১৪ দিন সময় লাগে, যাকে বলে ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড৷ একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, গড়ে পাঁচ দিনের মধ্যেই উপসর্গ প্রকাশ পায়৷
  • search শিশুরা কতটা নিরাপদ? শিশুরা কি আক্রান্ত হয়?
    শিশুরা অবশ্যই করোনভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশুদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হালকা লক্ষণ দেখা দেয় এবং অন্যান্য বয়সের তুলনায় শিশুদের তুলনামূলকভাবে মৃত্যুর হার কম। তবে কোনও শিশু যদি স্কুল অথবা খেলার মাঠে খেলতে যায় এমনকী সংক্রামণ আছে এমন ব্যক্তির কাছাকাছি থাকে তাহলে শিশুটি আক্রান্ত হতে পারে।